Tuesday, June 12, 2018

My Article on Radio Bangla NY Newspaper about Current State of Chess in Bangladesh


https://www.rbnews24.com/news/3933/news-details

দেশের দাবার বর্তমান অবস্থা


দুই দিন ব্যাপী রেকট্যাংগল রেপিড চেস টুর্নামেন্টের উদবোধনী চাল দিচ্ছেন গ্রান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান


অফিসে প্রোজেক্টের মাঝখানে হঠাৎ করে ১০ দিনের একটা ফাঁক পেয়ে বাংলাদেশে ঘুরে আসলাম গত মাসে। দীর্ঘদিন দেশে দাবাখেলেছি আমেরিকা আসার আগে। তাই দেশে যাবার কথা মনে হলেই বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের কথা যেমন মনে পরে, তেমনি মনে পরে আমার দাবার সহ-খেলোয়াড়দের কথা। ৯০এর দশকের মাঝামাঝি ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ক্লাস শেষ করে বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দাবা ফেডারেশনে চলে যেতাম খেলতে। সারা সন্ধ্যা এমনকি রাত দশটা পর্যন্ত খেলে উল্টো দিকের চায়ের দোকানে বসে পুরি ভাগ করে খেতে খেতে বোর্ড গুটির অভাবে মুখে মুখে খেলে ফেলতাম দুই একটা গেম। যেই বয়সে বন্ধুরা মেয়েদের সাথে ডেটিং করে বেড়াতো, সেই বয়সে আমরা ৬৪ ঘরের বোর্ডে মুখ বুজে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে চেয়ে রাইতাম ববি ফিশার অথবা কাপাব্লাঙ্কার একটা তাক লাগানো চাল দেখে!
আমি দেশে রওনা হবার দুই দিন আগে গোল্ডেন স্পোর্টিং ক্লাবের আমির আলী রানা ভাই ফেসবুকে নক করলেন - "শুনলাম ঢাকা আসছেন? আপনি তো আসলে একটা টুর্নামেন্ট দেন, এবার করবেন না?" টুর্নামেন্ট স্পনসর করার ইচ্ছে ছিল কিন্তু সময়ের অভাবে ঢাকায় যোগাযোগ করে রাখতে পারিনি আগে। তাই রানা ভাই যখন বললেন উনি আয়োজনের সব ব্যবস্থা করবেন, আমার শুধু একটা স্পন্সরের নাম আর টাকাটা জোগাড় করতে হবে, আমি সানন্দে রাজি হয়ে গেলাম। আমার দীর্ঘ দিনের দাবা বন্ধু শাকিল আর পরাগের সাথেও কথা বলে নিলাম।রানা ভাই ম্যাজিসিয়ানের মতো অল্প সময়ে সবআয়োজন করে ফেললেন। দাবা ফেডারেশনে খেলা হবে দুই দিন সকালে। চিফ গেস্ট গ্রান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান এবং আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ। আমার ভাই রাশেদুজ্জামানের ব্র্যান্ড প্রমোশন কোম্পানি রেকট্যাংগল বিডি এর নাম অনুযায়ী এর নাম রাখা হলো রেকট্যাংগল রেপিড চেস টুর্নামেন্ট।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হলো ৮ই মে দাবা ফেডারেশনে। ঐদিন চার রাউন্ড খেলা আর পরদিন ৩ রাউন্ড, সাথে আবার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। তাইবুর রহমান সুমন ভাই চ্যাম্পিয়ন হলেন আর জিয়া ভাই রানার আপ। কাকতালীয় ভাবে একই সময়ে শিপলু (ফিদে মাস্টার এবং আমার পুরোনো বন্ধু) অস্ট্রেলিয়া থেকে কিছুদিনের জন্য ঢাকা এসেছে। ফেসবুকের কল্যানে ও জানতে পারলো আমি ঢাকায়। সেও আমাদের সাথে জয়েন করলো টুর্নামেন্ট এর দ্বিতীয় দিন।ফেডারেশনে পুরোনো অনেক খেলোয়াড়কে পেয়ে গেলাম। রানী আপা এই বয়সেও শিশুর মতো আগ্রহ নিয়ে গুটি চালছেন। শুধু তাই না উনি এবছরেও ন্যাশনাল ওমেন্স চ্যাম্পিয়ন হয়ে আরেকটা রেকর্ড করলেন মাত্র কয়দিন আগে। জিয়া ভাই আগের মতোই খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশে আর বাইরে। জিয়া ভাই, সুমন ভাই, শিপলু, শাকিল আর পরাগ একটা গেমের পোস্ট মর্টেম করছে। আর ইন্টারন্যাশনাল আরবিটার হারুন ভাই আগের মতোই বলে উঠছেন, "শব্দ করা যাবে না, পাশের রুমে খেলা চলছে।"
তবে সবার কাছ থেকেই জানতে পারলাম দেশের দাবা অঙ্গন হুমড়ি খেয়ে পরে আছে। রানা ভাই চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিন্তু ফেডারেশনের আরো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা দরকার। যথেষ্ট টুর্নামেন্ট না থাকায় ভালো খেলোয়াড় বেরিয়ে আসছে না। তরুণ খেলোয়াড়েরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে আর পুরোনো খেলোয়াড়েরা হতাশ। ফেডারেশন বছরে হাতে গোনা কয়টা ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ, প্রিমিয়ার ডিভিশন লীগ টুর্নামেন্ট করেই খালাস। রাজিব-রাকিবের পর অনেকগুলো বছর আমরা কোনো গ্রান্ড মাস্টার পাই নি। দুই তরুণ আন্তর্জাতিক মাস্টার সাগর আর শাকিল চেষ্টা করে যাচ্ছে কিন্তু যদি বছরে ২টা গ্রান্ড মাস্টার টুর্নামেন্ট করা যেত তবে হয়তো অনেকের জন্যই কাজটা আর অসম্বভ হয়ে থাকতো না। কিশোর ফিদে মাস্টার ফাহাদ রহমান এর মাঝেই উঠে আসছে, কিন্তু তার প্রথমে ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার টাইটেল জিততে হবে। ফিদে মাস্টার কায়েস ভাই কিছুদিন আগে চলে গেলেন কানাডা। আরো অনেক খেলোয়াড় বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন আগেই।
দেশে স্পনসর করার মতো বিত্তশালী লোকের অভাব নেই, কিন্তু তারা সবাই ক্রিকেটে টাকা দিচ্ছে, ব্র্যান্ড মার্কেটিং এ সুবিধা হয়। কিন্তু অন্য খেলা গুলো ও তো বাঁচিয়ে রাখতে হবে। মাসে একটা দাবার রেটিং টুর্নামেন্ট করা যে অনেক খরচের ব্যাপার তাও তো না। খেলোয়াড়রা নিজস্ব খরচে যতটুকু সম্ভব করে যাচ্ছে। আমার এখানে আমেরিকার কথা বাদ ই দিলাম, পাশের দেশ ইন্ডিয়া তে কর্পোরেট স্পনসর আর সরকারের সহযোগিতায় অনেক অনেক ভালো খেলোয়াড় প্রতিদিন বেরিয়ে আসছে। অথচ উপমহাদেশের প্রথম গ্রান্ড মাস্টার কিন্তু ভারতের প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বিশ্বনাথন আনন্দ নয়, বরং আমাদের গ্রান্ড মাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ। খুব বেশি দাবাখেলোয়াড় বাংলাদেশে স্বচ্ছল বেবসা বাণিজ্য করছে এমন শুনি না।
যেই অল্প কয়েকজন আছেন, তা যথেষ্ট নয়। এইজন্য এগিয়ে আসতে হবে আমাদের সকল প্রাক্তন দাবা খেলোয়াড় এবং দাবানুরাগীদের। সাথে দরকার কর্পোরেট এবং সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা। দূরে থেকে আমরা দুই বছরে একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করে কিছু করতে পারব না। টুর্নামেন্ট হতে হবে নিয়মিত। আমি যেই সময়টায় ঢাকায় খেলতাম তখন অবস্থা অনেক ভালো ছিল এখনকার তুলনায়। মাঝের কিছু ফেডারেশন কমিটি দেশের দাবাকে জোর করে ধরে পেছনে নিয়ে গেছে।
কিন্তু হতাশ হয়ে বসে থেকে লাভ নেই। সামনের দিকে আমাদের চোখ তুলে তাকাতে হবে। ক্রিকেট আর ফুটবলের পর দাবাতেই আমরা তুলনামূলক ভাবেশক্তিশালী । পাঠক, আপনারা কি দাবাঙ্গনের উন্নয়নে কোনোভাবে অংশগ্রহন করতে পারেন?
আশিক উজ্জামান,
সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, রোকু ইনক., সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া

Wednesday, April 11, 2018

কারুয়ানার ফিদে ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্ট বিজয়


https://www.rbnews24.com/news/3211/news-details

(রেডিও বাংলা NY সাপ্তাহিক খবরের কাগজে আমার লেখাটি প্রকাশিত হল আজ ১২ ই এপ্রিল ২০১৮)

আমেরিকার দাবাঙ্গনে বিরাট সুখবর! প্রায় ছিচল্লিশ বছর পর একজন মার্কিন বংশোদ্ভূত দাবাড়ু বিশ্ব দাবার খেতাবি লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেআমেরিকা ইতালির দ্বৈত নাগরিক গ্র্যান্ডমাস্টার ফাবিয়ানো কারুয়ানা গত ২৭শে মার্চে ফিদে ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টের শেষ রাউন্ডে রাশিয়ার আলেক্সান্ডার গ্রিশ্চুক কে পরাজিত করে ১৪ খেলায় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ম্যাগনুস কার্লসেনের বিপক্ষে চ্যালেন্জার নির্ধারণী এই টুর্নামেন্ট টি গত ১০ই মার্চ থেকে ২৮শে মার্চ পর্যন্ত ৮জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে রাউন্ড রবিন লীগ পদ্ধতিতে জার্মানির বার্লিন শহরে অনুষ্ঠিত হয় 

১৯৭২ সালে কিংবদন্তির ববি ফিশারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর অনেক কাল ধরে আর কোনো আমেরিকান দাবাড়ু এই সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করতে পারছেন না. কারুণার সামনে এখন সেই সুযোগ তবে রুশ বংশোদ্ভূত আমেরিকান গ্র্যান্ডমাস্টার গাটা কামস্কি ফিদে বিশ্ব খেতাবি লড়াই ১৯৯৬ চ্যালেন্জার হতে পেরেছিলেন কিন্তু তিনি লড়াই আনাতোলি কার্পভের কাছে হেরে যান তাছাড়া সেটি ছিলো বিভক্ত দাবা জগতের সময় তখন অধিকাংশ দাবানুরাগী পিসিএ আয়োজিত ক্যাস্পারভ বনাম আনন্দ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ টিকেই সত্যিকারের খেতাবি লড়াই মনে করতো সেই দ্বিধান্বিত সময় দাবা জগৎ অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছে এখন অবিভক্ত দাবাঙ্গনে ববি ফিশারের পর কারুয়ানার সামনে সুযোগ এসেছে আরেকজন আমেরিকান হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন খেতাব অর্জন করার 



গত ১০ বছর ধরেই আমেরিকার দাবাঙ্গন অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ ১০ খেলোয়াড়ের মাঝে জন আমেরিকান কারুয়ানা ২য় , হিকারু নাকামুরা ৬স্ঠ এবং ওয়েসলি সো ৭ম কারুয়ানার মার্কিন দল ২০১৬ এর চেস অলিম্পিয়াড জয় করে ২০১৬ এর US ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেন কারুয়ানা ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টের পরপর জার্মানির বাদেন বাদেন শহরে অনুষ্ঠিত গ্রেনকে ক্লাসিক টূর্ণামেন্টেরও শিরোপা জিতলেন কারুয়ানা, যেখানে ১ম রাউন্ডে তিনি ড্র করেন বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ম্যাগনুস কার্লসেনের সাথে  পরপর এই দুইটি টুর্নামেন্ট জিতে কারুয়ানা তার এত কার্লসেনের মাঝে রেটিং ব্যবধান অনেক কমিয়ে এনেছেন লাইভ রেটিংয়ে কার্লসেনের ২৮৩৮ এর বিপক্ষে কারুয়ানার রেটিং এখন ২৮১৭ 

মাত্র বছর বয়সে দাবা খেলা শিখে কারুয়ানা নিউ ইয়র্কে তুখোড় দাবাড়ু হিসেবে বেড়ে উঠেন কিন্তু বছর বয়সে বাবা মায়ের সাথে ইতালি চলে যান সেখানেই ১৪ বছর ১১ মাস বয়সে তৎকালীন সর্বকনিষ্ঠ ইতালীয় এবং আমেরিকান হিসেবে গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব লাভ করেন তার খেলার স্টাইল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ২০১৪ সালের সিন্কেফিল্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হবার পথে টানা প্রথম ৭টি খেলায় জিতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন ওই টুর্নামেন্টে তার রেটিং পারফরমেন্স ছিল অবিশ্বাস্ব ৩১০৩, যা অনেকের মোতে সর্বকালের সেরা টুর্নামেন্ট পারফরমেন্স   বছর আগে ২০১৬ এর ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টের শেষ রাউন্ডে রাশিয়ার সার্গেই কারিয়াকিনের কাছে হেরে গিয়ে অল্পের জন্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা লড়াই থেকে বঞ্চিত হন কিন্তু এইবার আর সেই ভুল করেননি পরিষ্কার পয়েন্ট এগিয়ে থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মাগনুস কার্লসেনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জের হিসেবে মনোনিত হলেন 

২০১৮ এর ওয়ার্ল্ড চেস চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবার কথা নভেম্বরে লন্ডনে কিন্তু কারুয়ানার এই বিজয়ের পর এখন শোনা যাচ্ছে মার্কিন ধনকুবের রেক্স সিন্কেফিল্ড অনেক বেশি অর্থ পুরস্কার দিয়ে টুর্নামেন্টটি আমেরিকার সেন্ট লুইস, মিসৌরিতে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করছেন বর্তমানে কারুয়ানা সেন্ট লুইসে বসবাস করছেন যেখানে নিয়মিত সিন্কেফিল্ড কাপ, US ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় বড় টুর্নামেনটের আয়োজন হয় 

কারুয়ানার এই সাফল্যের হাত ধরে আমেরিকার দাবাঙ্গন আরো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠবে লন্ডনে হোক আর সেন্ট লুইসেকারুয়ানা আর কার্লসেনের ১২ গেমের ওয়ার্ল্ড চেস চ্যাম্পিয়নশিপ টাইটেল ফাইটের জন্য আরো মাস পৃথিবী ব্যাপী দাবাড়ুরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে আর যদি লড়াইটা আমেরিকার মাটিতেই হয়, তবে আমরা যারা এখানে আছি তারা কি সামনাসামনি খেলাটা দেখার সুযোগ হাতছাড়া করবো?

ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টের ফাইনাল স্ট্যান্ডিং: